সারা দেশে হোটেল রেস্টুরেন্টের খাবারের মান পরীক্ষার নির্দেশ

সিনিয়র রিপোর্টার / লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে দেশের সবখানে হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবার পরীক্ষা করতে হবে। রাজধানীর মতো সারা দেশের রেস্টুরেন্টে খাবারের মান পরীক্ষা করে গ্রেডিং স্টিকার দেয়া ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা চালু করতে বলেছেন তিনি। গতকাল ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, এটা খুব ভালো যে রাজধানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট-হোটেলে খাবারের মান পরীক্ষা করে গ্রেডিং স্টিকার দেয়া হচ্ছে, মনিটরিং করা হচ্ছে। রাজধানীর পাশাপাশি পুরো দেশেই এটা হওয়া দরকার। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের জন্য যা সহযোগিতা করা দরকার করব। অনলাইনে অর্ডারভিত্তিক খাবারের মান নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ব্যবসা করছেন তারা দুই পয়সা বেশি আয়ের জন্য খাদ্যে ভেজাল দেয় বা পচা, গন্ধ, বাসি খাবার পরিবেশন করে। এভাবে নিজের লাভের জন্য মানুষের ক্ষতি আর করবেন না। এ ব্যাপারে একদিকে যেমন সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে অন্যদিকে কঠোর হাতে তা দমনও করতে হবে। দুদিকেই ব্যবস্থা নেয়াটা একান্তভাবে দরকার।

খাদ্যে ভেজাল দেয়ার কঠোর সমালোচনা করে এ বিষয়েও জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, অতীতে দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত দেশের মানুষের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা না থাকায় নুন-মরিচ দিয়ে পেট ভরে চারটে ভাত খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করলেও এখন কিছুটা আমিষও ক্রয় করতে পারছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরো যাতে বাড়ে, তাদের যেন আর্থিক সচ্ছলতা আসে সেজন্যই তার সরকার নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

সুষম খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সুষম খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে জরুরি ও প্রয়োজন। এটা নিরাপদ খাদ্যের মধ্যেও পড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জনগণ বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও গর্ভবতী নারীরা পুষ্টির জন্য কীভাবে এই সুষম খাবার গ্রহণ করবে সে বিষয়ে তাদের সচেতন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে একটি অনুরোধ করব—নিরাপদ খাদ্যের জন্য কেবল ল্যাবরেটরি টেস্ট করলেই হবে না। সেই সঙ্গে আরেকটি কাজ করতে হবে—সুষম খাদ্য কীভাবে গ্রহণ করতে হবে তা প্রচার করতে হবে। খাদ্যটা কীভাবে নিলে সেটা সুষম হবে সেটা যেমন মাথায় রাখতে হবে, তেমনি প্রচারেরও ব্যবস্থা করতে হবে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এবং মত্স্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। অন্যদিকে গণভবন প্রান্তে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *