রংপুরে তিন ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে

জালাল উদ্দিন / লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর :

রংপুরে তিন ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের চেয়ে জনপ্রিয়তায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে এক জরিপে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলছেন, এবার ইউপি নির্বাচনে ক্লিন ইমেজের জন্য স্থানীয় মানুষের কাছে যারা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তারাই জয়ী হবেন। তবে এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটের মাঠে এই ক্লিন ইমেজকে কাজে লাগিয়ে পূর্ণরায় নির্বাচিত হতে চান।

আসন্ন তিন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৬জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৪৮জন ও সাধারণ সদস্য পদে ১শ’২৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও শুধুমাত্র একটি ইউনিয়নে বিএনপি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন । এই নির্বাচনে ৩টি ইউনিয়নের ৩৯টি কেন্দ্রে ৮১ হাজার ৫শ’৬১জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন।
এদিকে, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে সদ্যপুস্করিনী অলিতেগলিতে মোটরসাইকেল, আটোরিক্সা ও ভ্যানে মাইকসহ ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঢোল মার্কা) সোহেল রানা। এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, সোহেল রানা এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, স্কুল কলেজে তার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যাপক উন্নয়নের কাজ করেছে। দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে । এলাকার মানুষের বিপদে পাশে থাকায় সবাই তাকে পছন্দ করেন। এলাকার মানুষই তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে অনুরোধ করেছিলেন। ফলে সুষ্ঠু ভোট হলে সোহেল রানা বিজয়ী হবেন বলে বিশ্বাস করেন তারা।

অপরদিকে, জাতীয় পার্টির মনোনিত লাঙ্গল প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফজলুল হক ফুলবাবু’র সমর্থকরা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্য প্রার্থী আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোকছেদুর রহমান দুলু, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মন স্বাধীন থেমে নেই।

চন্দনপাটের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের আমিনুর রহমান, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের রুহুল আমিন লিটন ও বিএনপি মনোনীত মাহাফুজুল হক রুবেল নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই চিত্র হরিদেবপুর ইউনিয়নে। এখানে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন, নৌকা প্রতীকের একরামুল হক ও লাঙল প্রতীকের মফিজুল ইসলাম সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ও ওয়ার্ডের মেম্বার পদের চলছে তুমুল প্রচারণা।
রংপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টানিং অফিসার রেজাউল করিম জানান, সদর উপজেলার হরিদেবপুর, চন্দনপাট ও সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নিবার্হি ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। নির্বাচনী আচরণ বিধি লক্ষ করা হচ্ছে। এরেই মধ্যে ইউনিয়নের অনেক প্রার্থীকে আচরণ বিধি ভঙের কারণে সর্তক করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মাঠে থাকবে। ভোট সুষ্টুভাবে সম্পূন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা তৎপর রয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

হরিদেবপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, পূর্নরায় নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা নিরসন, বেকারত্ব দূরকরণ, কলকারখানা স্থাপন, প্রতিটি রাস্তাঘাটে বাতি স্থাপনের মাধ্যমে আলোকিত করা, বর্জ্য অপসারণের সমস্যাগুলো নিরসনে মাধ্যমে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করা।

রংপুর সদর কোতোয়ালি থানার (ওসির দায়িত্ব প্রাপ্ত) কর্মকর্তা বাবলু মিয়া জানান, নির্বাচন একটি উৎসব। এই উৎসব যেন সংঘাতে পরিণত না হয়। যদি কেউ নির্বাচনী বিধিনিষেধ ভঙ্গ করেন তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *