রংপুরে নিয়ন্ত্রণহীন সবজি বাজার, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষজন

জালাল উদ্দিন / লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর :

রংপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজির মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের নিয়মিতবাজার মনিটরিং ও তদারকি না থাকায় কয়েক দফায় বেড়েছে কাঁচা শাক-সবজির দাম। রংপুরে এক মাসের ব্যবধানে আলু, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এতে করে নিম্ন আয় ও সাধারণ মানুষজন বিপাকে পড়েছেন।

দেখাগেছে একমাস আগেও যে আলুর দাম ছিল ২৫ থেকে ২৮ টাকা কেজি, এখন তা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৫-৫৫ টাকায়। আলুর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেগুনের দামও। একমাসের ব্যবধানে বেগুণের দাম হয়েছে দ্বিগুণ। এখন প্রতিকেজি বেগুনের দাম ঠেকেছে ৮০ টাকায়। এছাড়াও বাড়ছে সব ধরনের সবজির দামও।

শুক্রবার দুপুরে রংপুর নগরীর সিটি বাজার, শাপলা চত্বর কাঁচা বাজার, কামাল কাছনা, ধাপ কাজার, টামিনাল বাজারসহ বেশ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে এমনটা তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক দফা বন্যা আর অতি বৃষ্টির কারণে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাজারে সবজির দামে বেড়ে চলছে।

গত ১০দিন আগেও রংপুরের সবজি বাজারে বেগুন ছিল ৪০-৫০ টাকা। এখন যা ৬৫-৮০ টাকা। যে আলু ছিল ২৫-৩০ টাকা, এখন দাম বেড়ে ৪৫-৫০ টাকায়। আলু বেগুণের সাথে দাম বেড়েছে তরিতরকারির অন্যতম উপাদেয় কাঁচামরিচেরও। আগে কাঁচা মরিচ বিক্রি হতো ১শ’৬০ থেকে ২শ’ টাকা। কিন্তু এখন সব সবজিরই চড়া দাম। ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজির বাজারের পরিস্থিতি এখন লাগামহীন হয়ে পড়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে। এনিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। নিত্য খাদ্যপণ্যের এমন দাম বাড়াতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানষুজন। কোনো মনিটরিং না থাকায় এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি সবজিতে দাম বেড়েছে ১০-২৫ টাকা। আবার কোথাও কোথাও দিনের বেলা একরকম দামে বিক্রি হলেও রাতে তা আরও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। দাম ব্যাপার কারণ হিসেবে সরবরাহ সংকটকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা।

রংপুর নগরীর টার্মিনাল বাজারের সবজি বিক্রেতা আনাম মিয়া ও সাকের হোসেন বলেন, সব সবজিরই দাম বেড়েছে। গ্রাম থেকে এখন কাঁচা বাজারে সবজি সরবরাহ কমেছে। যার কারণে দুই-তিনসপ্তাহের ব্যবধানে সব সবজিতেই কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় আমাদেরকেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এই বাজারে একমাস আগে আলু ছিল ৪০ টাকা আর বেগুন কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৬০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে আলু ৫০ থেকে ৫২ এবং বেগুন ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়। এছাড়াও কাকরোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, লালশাক, শসা, ধনেপাতা, করলা ও লাউয়ের দামও বাড়তি। শাক-সবজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের ক্রেতারা। তারা জানান, মাছ, মাংসের যেমন দাম সবজির দামও একই। আমাদের নাগালের বাইরে সব ধরণের সবজির দাম। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়লেও প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই। বাজার মনিটরিং কর্তৃপক্ষ নিরব। কোথাও কোথাও কাঁচা সাব-সবজিও এখন একদরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার পদক্ষেপ নিলেও রংপুরে শুক্রবার দুপুরে বেশির ভাগ বাজারে ৪০ টাকার ঊর্ধ্বে আলু বিক্রি করতে দেখা গেছে। নগরীর কামাল কাছনা বাজারে কথা হয় সাজ্জাদ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, ভাতের পর আলুর উপর নির্ভর করে নিম্ন আয়ের মানুষ। সেই আলুর দাম এখন ৫০ টাকার ওপরে। অথচ গ্রামেগঞ্জে কৃষকের কাছে আলু নেই। আলু এখন মজুতদার এবং কোল্ডস্টোরের মালিকদের হাতে। তারাই কারসাজি করে আলুর বাজারগরম করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে কৃষিবিপণন অধিদপ্তর বলছে, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাজার সহনীয় পর্যায়ে আসবে। রংপুর কৃষিবিপণন অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, যদি যোগানের সমন্বয় না থাকে তাহলেই কিন্তু আমাদের ব্যত্যয় ঘটে। এই অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। শীতের সবজি বাজারেআসা শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই এ অবস্থার উন্নতি হবে। তিনি আরও জানান, আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিকেজি আলুর দাম হিমাগার পর্যায়ে ২৩টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩০টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওইদামে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির বিক্রি নিশ্চিত করতে সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদফতর।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। যাতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজি মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে। তিনি বলেন, গত বুধবার আমরা রংপুরের বেশ কয়েটি আলুর ষ্টোর পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি। যাতে তারা আলু বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *