রংপুরের ইউপি নির্বাচনের দুটিতে স্বতন্ত্র, একটিতে নৌকা

জালাল উদ্দীন / লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর :

রংপুর সদরের হরিদেবপুর ও সদ্যপুষ্কুরিণী ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে জিতেছে ঢোল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আর চন্দনপাট ইউনিয়নে নৌকায় সাবেক চেয়ারম্যান আমিনার রহমান। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিন ইউনিয়ন পরিষদেই চেয়ারম্যান পদে সাবেকরাই ফের নির্বাচিত হয়েছেন।তিনটি ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ব্যালেট যুদ্ধে এগিয়ে থাকলেও একটিতেও জিততে পারেনি।

আজ (২০ অক্টোবর) মঙ্গলবার রাত ১১ টায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এসব ইউনিয়নে মোট ভোটারের ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে।

ঘোষিত ফলাফলে হরিদেবপুর ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ঢোল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন ১১ হাজার ৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী মফিজুল ইসলাম জর্দার লাঙ্গল প্রতীকে ৫ হাজার ৭৯৬ ভোট পড়েছে। আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় একরামুল হক পেয়েছেন ৪ হাজার ১৯১ ভোট। এছাড়াও হাতপাখা ৩৮১ ও অটোরিক্সা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছে ৫১ ভোট। এই ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ২’শ ৯৭ জন। এরমধ্যে ৮০ দশমিক ৬২ ভাগ ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেছেন।

সদ্যপুষ্করিনী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকছেদুর রহমান দুলুর নৌকা ডুবিয়ে জিতেছে সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সোহেল রানা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৬০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির ফজলুল হক ফুলবাবু লাঙ্গল প্রতীকে ৬ হাজার ১২৭ ভোট এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকছেদুর রহমান দুলু ৫ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া রজনীগন্ধা প্রতীকে ৪ হাজার ১৬২ এবং হাতপাখা ৮৭১ ভোট পেয়েছেন। এখানে ২৯ হাজার ৪’শ ১১ জন ভোটারের মধ্যে ৮০ দশমিক ৮৭ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন।

চন্দনপাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আমিনার রহমান নৌকা প্রতীকে ৫ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন লিটন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৭৮ ভোট। তার নিকটতম আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী লিটন চৌধুরী মোটরসাইকেল নিয়ে ভোট পেয়েছে ৪ হাজার ৯৯৩ ভোট। এছাড়া আনারস প্রতীকে ১ হাজার ৩৩২ ভোট, হাতপাখায় ১ হাজার ১৮৯ এবং ধানের শীষে ভোট পড়েছে ১ হাজার ৫৭ ভোট। এই ইউনিয়নে ২৪ হাজার ৮’শ ৫৩ জন ভোটারের মধ্যে ৮০ ভাগ ভোটার ভোটাধিকার প্রদান করেছেন।

তিনটি ইউনিয়নের প্রচার প্রচারণায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা সবসময় সরগরম থাকলেও ব্যালেট পেপারের অংকে ভরাডুবি হয়ে দলটির চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা হাতপাখা নিয়ে ভোটের মাঠে থাকলেও সুবিধা করতে পারেনি। তাদের ভোটের হিসেব আরও শোচনীয়। তবে ব্যালেট পেপারে নির্বাচন হওয়ায় ভোট উৎসবে মেতেছিল ভোটাররা।

এছাড়াও রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ১নং আলমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকে ৫ হাজার ৯০৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী খায়রুল ইসলাম চশমা প্রতীক পেয়েছে ৪ হাজার ২৫৫ এবং জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে রুজিনা খাতুন চৌধুরী ২ হাজার ১০৭ ভোট পেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *