বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেবে স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড

স্টাফ রিপোর্টার / লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর :

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে জমে থাকা অবণ্টিত লভ্যাংশ দিয়ে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গঠন করতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। বাজার স্থিতিশীল রাখার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে এই তহবিল ব্যবহার করা হবে। তহবিলের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার নীতিমালাও ইতিমধ্যে প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই বছর শেষে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। তবে শেয়ার ডিমেট না হওয়া, কোম্পানির সদিচ্ছার অভাব, বিনিয়োগকারীর মৃত্যু, ঠিকানা পরিবর্তনসহ নানা কারণে অনেক ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পৌঁছায় না। ফলে তা ফেরত আসে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অ্যাকাউন্টে।

এমন পরিস্থিতিতে পুনর্গঠিত বিএসইসির নতুন কমিশন দায়িত্ব নিয়েই অবণ্টিত লভ্যাংশের খোঁজ শুরু করে। কোম্পানিগুলোতে পাঠানো হয় চিঠি। এরই প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার অবণ্টিত লভ্যাংশের তথ্য পেয়েছে বিএসইসি। এই অর্থেই তৈরি হচ্ছে মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড। যাকে স্বাগত জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, এই ফান্ডটা বিভিন্ন ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে বড় ধরনের টাকাটা পাওয়া যাবে। আমি মনে করি এটা একটি সঠিক উদ্যোগ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং এটা বাজারকে অনেক বেশি এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এদিকে তহবিলটির ব্যবহার, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার নীতিমালা তৈরি করছে বিএসইসি। যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

বিএসইসি কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমদ বলেন, যে ক্যাপিটাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডটি তৈরি করেছি সেক্ষেত্রে এ দুটোকেই আমরা সংগ্রহ করবো। তা ক্যাশ প্রেক্ষাপট থেকে হয়তো বা দুই/তিন হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

কিছু কোম্পানি এখনও তাদের অবণ্টিত মুনাফার তথ্য দিতে পারেনি। এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি কমিশনার বলেন, যারা ওই ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে তাদের অনেকের সঙ্গে ইতিমধ্যে আমরা আলোচনা করেছি, প্রতিনিয়তই কথাবার্তা বলছি। চেষ্টা করছি তাদের প্রতি সহায়ক ভূমিকা রাখতে। যদি তারা ব্যবসাটাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারে সেক্ষেত্রে এক ধরনের অবস্থান, যদি না নিয়ে আসতে পারে সেক্ষেত্রে হয়তো আমরা অন্য ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারি।

বড় আকারের নতুন এই তহবিল বাজারে তারল্য-প্রবাহ ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা বিনিয়োগকারীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *