বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সহায়তার আশ্বাস

সিনিয়র রিপোর্টার / লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর :

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চুরি হওয়া টাকা ফেরাতে ফিলিপাইনের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত ভিসেন্তে ভিভেনসিও টি বানদিল্লো আজ রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে এলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অনুরোধ জানান। বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ঢাকায় সাড়ে ছয় বছরের দায়িত্ব পালন শেষে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত ভিসেন্তে ভিভেনসিও টি বানদিল্লো এ মাসের শেষের দিকে দেশটিতে ফিরে যাবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরাতে সহায়তা করায় ফিলিপাইন সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং বাকি অর্থ ফেরাতে ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতা চান। এ সময় ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত বানদিল্লো বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে পুরোপুরি সহায়তার আশ্বাস দেন এবং সে দেশের সরকার তাদের জাতীয় সমস্যা অর্থপাচার মোকাবিলায় বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানান।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান শিগগিরই না করা গেলে উগ্রপন্থীরা বাস্তুচ্যুতদের সুযোগ নিতে পারে। এতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা হুমকির মুখে পড়তে পারে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আসিয়ানের সব সদস্যর সঙ্গে ফিলিপাইনকে মিয়ানমারে ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করার অনুরোধ জানান তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্মস্থান রাখাইন রাজ্যে স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে ফিলিপাইনের সমর্থন চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে ফিলিপাইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ফিলিপাইনের প্রভাব বাড়ানো উচিত।

এ কে আবদুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ভয় দূর করতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আসিয়ান-নেতৃত্বাধীন নিরস্ত্র বেসামরিক পর্যবেক্ষক দল গঠনের প্রস্তাব করে আসছে। তবে মিয়ানমার এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে এগিয়ে আসছে না।

সেবা খাতে বিশেষত নার্সিং, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ও সমুদ্র যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফিলিপাইনকে বিশ্বনেতা অভিহিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিলিপাইনের সঙ্গে নার্সিং শিক্ষা বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে আগ্রহী এবং দুই দেশের মধ্যে শিক্ষার্থী ও নার্সদের বিনিময় কার্যক্রম শুরু করতে চায়।

এ সময় রাষ্ট্রদূত শিগগিরই সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করবেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন।

কৃষি প্রক্রিয়াকরণ খাতে দেশটির বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশে ফিলিপিনো ফ্র্যাঞ্চাইজি জলিবি ও পটেটো কর্নারের আউটলেট খোলার পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *