প্রকাশ্যে হুমকি জমি বিরোধে মামলায় জামিন পেয়েও বাড়ি যেতে পাড়ছে না শিক্ষক পরিবার

জালাল উদ্দীন/লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোরঃ

রংপুরে আদালত থেকে জামিন নিয়েও জাতীয় শ্রমিকলীগ নেতার ভয়ে বাড়ি ছাড়া এক শিক্ষকের ছেলে। এই ঘটনায় ভোক্তভোগি ওই পরিবার সুষ্ঠু তদন্তসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, রাধাকৃষ্ণপুর এলাকার শিক্ষক ও কাপড় ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেনের সাথে একই এলাকার মোস্তাফিজার রহমানের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এই ঘটনায় আদালতে উভয় পক্ষে মামলা থাকলেও প্রতিপক্ষ মোস্তাফিজার রহমান ও তার গুন্ডাবাহিনী দিয়ে গত ৩০জানুয়ারি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোজাফফর হোসেনের ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে থাকা বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এছাড়াও বাড়িতে রাখা জমি বন্ধকী ৭৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বাধলে ঘটনাস্থলে একজন গুরুতর আহত হয়। এঘটনায় প্রতিপক্ষ মোস্তাফিজার রহমান শিক্ষক মোজাফফর ও তার ছেলের নামে মিথ্যা মামলা করেন।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষকের ছেলে শহিদুল ইসলাম জামিন নিয়েও জাতীয় শ্রমিক নেতার ভয়ে বাড়ি যেতে পাড়ছে না বলে অভিযোগ করেছেন।
মামলার বাদি শিক্ষক মোজাফফর হোসেন জানান, ১৯৮৩ সালের মায়ের অংশ সূত্রে জমির মালিক ছাহেরা খাতুনের কাছে ৯শতক ক্রয় করি। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে ছাহেরা খাতুনের বোনের কাছে আবারো সাড়ে ১৫শতক জমি ক্রয় করে বাড়িঘর নির্মাণ করে ভোগ দখল করে আসছি। মোজাফফর হোসেন জানান আরও দীর্ঘ ৩৩বছর পর মোস্তাফিজার রহমান গং মালিকানা সেজে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ প্রাণনাশের হুমুকি দিয়ে আসছেন। বর্তমান পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।

শিক্ষক মোজাফফর হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষ মোস্তাফিজার রহমান ও শ্রমিকলীগ নেতা বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। আমি তাদের ভয়ে বাড়ি যেতে পাড়ছি না। এছাড়াও এলাকায় প্রকাশ্যে শিরñেদ করার হুমকি দিয়েছেন। তাই আমি প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে উল্লেখিত বিষয়টি তদন্তসহ আইনী সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাতীয় শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুল মাজেদ জানান, আমি কেন জমি দখল করবো। আমি কি জমির মালিক। আমার সাথে এ বিষয়ে কথা হয়নি। তারা বাড়িতে বসবাস করছেন। মামলার বাদি ও বিবাদি আমার মামাত ভাই।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল আবেদীন রতন জানান, জমির মালিক মোজাফফর হোসেন ছিলেন। তার বিমাতা ভাই বিভিন্ন লোকজন নিয়ে বাড়ি ভাংচুর করেছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন হাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এ সংক্রান্ত উভয় পক্ষে মামলা হয়েছে। তবে বাদি একটি অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *