উত্তাল রংপুর বাসা বাড়ির বাতি নিভিয়ে সড়কে হত্যার প্রতিবাদ

 

জালাল উদ্দীন

লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে আবু ইউনুস মো.সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বাসা বাড়ির বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে রেখে সড়কে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন রংপুর নগরীর শালবন এলাকাবাসী। জুয়েল হত্যাকা-ে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রম এই প্রতিবাদ জানান তারা।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাতটা ৫ মিনিট পর্যন্ত সকল বাড়ির বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে পুরো শালবন এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখা হয়। একই সময়ে ঘরের বাইরে বেড়িয়ে সারিবদ্ধভাবে সড়কে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে জুয়েল হত্যার প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা। অন্ধকার নিমজ্জিত প্রতিবাদে বক্তারা বলেন, ধর্মভীরু নিরীহ জুয়েলকে কোরআন অবমাননার মিথ্যা অপবাদে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করেই ঘাতকরা ক্ষান্ত হয় নাই, মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলা হয়েছে। অথচ জুয়েল ছিলেন শান্ত ভদ্র সজ্জন ও নামাজি ব্যক্তি। স্থানীয় ব্যক্তিরা আরও বলেন, গুজব ছড়িয়ে শুধু এক জুয়েলের প্রাণনাশ করা হয়নি। জুয়েলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার স্ত্রী বিধবা হয়েছে। সন্তানরা অকালে পিতা হারিয়েছে আজ তারা বড় অসহায়। এই হত্যাকা-ে নির্মম, পাশবিক ও সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রতিবাদী এই আয়োজনে বক্তব্য রাখেন, রসিক কাউন্সিলর নুরুন্নবী ফুলু, সমাজসেবক অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বুলেট, শালবন এলাকার সাবেক কমিশনার ইকবাল শহিদুল আক্তার ফিরোজ, সমাজ উন্নয়নকর্মী আব্দুর রউফ প্রমুখ। এতে শালবন, পূর্ব শালবন, ইন্দ্রারার মোড়, শাহীপাড়া, আরসিসিআই মোড়, মিস্ত্রীপাড়া, শিয়ালুর মোড়, খেড়বাড়ি ও বোতলা বৈশাখী ক্লাবসহ বিভিন্ন পাড়া- মহল্লার লোকেরা অংশ নেন।
এদিকে, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শালবন এলাকার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে গতাকল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিহত জুয়েলের এলাকাবাসীরা। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার কয়েক নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর অংশ নেন। এসময় মিছিলের ভিতর থেকে মাইকে ভেসে আসে নিহত জুয়েলের স্ত্রী-সন্তানের আহাজরি। সঙ্গে সঙ্গে ‘বুকের ভিতর আগুন জ্বলে-নিভবে আগুন বিচার পেলে, জুয়েল ভাই নামাজি-তাই রাজপথে নেমেছি, কোরআন অবমাননা করেনি-জুয়েল ছিল নামাজি, যদি হয় বাড়াবাড়ি-আমরা যাবো বুড়িমারী, বিচার বিচার বিচার চাই- জড়িতদের ফাঁসি চাই, আবুল হোসেন বাইরে কেন-প্রশাসন জবাব চাই, আগুন সন্ত্রাস রুখবে, হত্যাকারী ফাঁসিতে ঝুলবে’ সহ বিভিন্ন স্লোগানে দেয়া হয়। এর আগে নগরীর ইন্দ্রারার মোড় বেগম রোকেয়া চত্বর থেকে বিভিন্ন এলাকার মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পায়রা চত্বর, সিটি করপোরেশন মোড়, টাউন হল মোড়, রংপুর কলেজ মোড় হয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে কালো ব্যানার, প¬াকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষের প্রতিবাদ মুখর অংশ গ্রহণে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো নগরী। পরে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টার্চায্য ও বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওহাব মিঞার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *